দীর্ঘ ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছে ব্রাজিল। তবে তাদের এই যাত্রার একটি বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার আগে রিও ডি জেনিরোর বিমানবন্দরে সেলেসাওদের বহনকারী বিমানটিকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ‘পবিত্র’ করা হয়েছে, যার ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গেছে।
রিও ডি জেনিরোর গালেয়াও বিমানবন্দরে আজুল এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ চার্টার্ড বিমানে চড়ে দেশ ছাড়েন নেইমার-ভিনিসিয়ুসরা। বিমানটি রানওয়েতে থাকাকালীন দুই পাশের জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে একে ‘ওয়াটার ক্যানন স্যালুট’ জানানো হয়। খ্রিস্টান ধর্মে এই প্রক্রিয়াকে অনেক সময় ‘ব্যাপ্টিজম’ বা নতুন যাত্রার শুভ সূচনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিমানটিকে ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার রঙে সাজানো হয়।

বিশ্বকাপ যাত্রার ঠিক আগমুহূর্তে বিমানে ওঠার আগে পুরো দলের একটি ছবি প্রকাশ করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ছবির ক্যাপশনে তারা লিখেছে—‘চলো একসাথে যাই’। ছবিতে দলের প্রাণভোমরা নেইমার এবং বর্তমান সময়ের সেরা তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ পুরো দলকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বাসিত দেখা গেছে।
খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করতে সিবিএফ এবার বোয়িং ৭৬৭-৩০০ইআর মডেলের একটি সুপার ভিআইপি চার্টার্ড বিমানের ব্যবস্থা করেছে। এই বিমানে ৯৬টি বিশেষ শয্যাবিশিষ্ট আসন রয়েছে, যেখানে ফুটবলাররা সম্পূর্ণ শুয়ে বিশ্রাম নিতে পারবেন। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টায় যাত্রা শুরু করে প্রায় ১০ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল নিউ জার্সিতে পৌঁছেছে।
ব্রাজিল দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিতে অবস্থান করছে। সেখানেই হবে তাদের বিশ্বকাপ পূর্ববর্তী মূল ক্যাম্প। ২০০২ সালের পর আর সোনালী ট্রফিটি ছোঁয়া হয়নি ব্রাজিলের। প্রায় দুই যুগের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার কি ‘মিশন হেক্সা’ পূর্ণ করতে পারবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা? উত্তর জানতে সারা বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল প্রেমী এখন অধীর অপেক্ষায়।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments