ফুটবলপ্রেমীরা তাদের প্রিয় তারকাদের জন্য কত কিছুই না করেন। কেউ শরীরে ট্যাটু আঁকেন, কেউ সন্তানের নাম রাখেন প্রিয় খেলোয়াড়ের নামে, আবার কেউ একটি ম্যাচ দেখার জন্য হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। তবে লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা যে আয়োজন করতে যাচ্ছেন, তা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।
আজ ২৪ জুন, ৩৯ বছরে পা দিলেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকার জন্মদিন ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো আর্জেন্টিনাজুড়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশজুড়ে মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য নিজেদের কাজ থামিয়ে একসঙ্গে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গান গাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অফিস, স্কুল, ক্যাফে কিংবা ঘর-যেখানেই থাকুন না কেন, সবাই এক মুহূর্তের জন্য থেমে মেসির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাবেন। একজন ফুটবলারের জন্মদিন উপলক্ষে গোটা দেশের এমন আয়োজন অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কিন্তু আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে মেসি কেবল একজন ফুটবলার নন; তিনি জাতীয় গর্ব, আবেগ এবং স্বপ্নের প্রতীক।
দীর্ঘ সময় ধরে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভার বহন করেছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জিততে না পারার সমালোচনা, একের পর এক ফাইনালে পরাজয় এবং কিংবদন্তি ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনার চাপ-সবকিছুই মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে।
অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে শিরোপা-খরা কাটান তিনি। এরপর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে পূরণ করেন আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেই সাফল্যই তাকে দেশের সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে।
এবারের জন্মদিন আরও বিশেষ একটি কারণে। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম প্রধান ভরসা মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং মাঠে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন। ফলে ভক্তদের কাছে তার ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্তই এখন বিশেষ মূল্য বহন করে।
ফুটবল আবেগের খেলা। আর সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে যখন থাকেন লিওনেল মেসি, তখন অনেক সময় যুক্তির চেয়ে অনুভূতিই বড় হয়ে ওঠে। তাই জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে আর্জেন্টিনার কোটি কোটি মানুষ একসঙ্গে গলা মিলিয়ে বলতে চান-“শুভ জন্মদিন, অধিনায়ক!”।




Comments