Image description

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহারণে আজ রাত ১০টায় মিসরের মুখোমুখি হচ্ছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন যে, ২০০৫ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে মিসরের বিপক্ষেই প্রথম আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তিনি গোলও করেছিলেন, যা ছিল কোনো বিশ্বকাপ মঞ্চে তার করা প্রথম গোল। তবে এই ম্যাচের পেছনে লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) তৎকালীন প্রধানের নানা কাণ্ডকীর্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১-০ গোলের হার দিয়ে সেই অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভাবান মেসিকে প্রথমার্ধে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন কোচ ফ্রান্সিসকো ফেরেরো। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মেসি নামলেও দলের হার এড়াতে পারেননি। গত মার্চে প্রয়াত বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং এএফএর সাবেক মুখপাত্র আর্নেস্তো চেরকিস বিয়ালো এক সাক্ষাৎকারে সেই ম্যাচের পরের এক বিস্ফোরক ঘটনা ফাঁস করেছিলেন।

বিয়ালোর বক্তব্য থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের টানেলে তৎকালীন এএফএ প্রেসিডেন্ট হুলিও গ্রনডোনা সরাসরি কোচ ফেরেরোর সামনে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘ফেরেরো, আমি তোমাকে এমন লাথি মারব যে সোজা উড়তে উড়তে বুয়েনস আইরেসে গিয়ে পড়বে! তুমি কী করছ এসব? মেসিকে কেন শুরুর একাদশে রাখোনি?’ 

এএফএ প্রধানের এমন কথায় স্বাভাবিকভাবেই আত্মসম্মানে আঘাত লাগে কোচ ফেরেরোর। তিনি স্পষ্ট বলে দেন, ‘দেখুন গ্রনডোনা, আপনি যদি আমার দল নির্বাচন করতে আসেন, তবে আমি এখনই পদত্যাগ করছি।’ পাল্টা হুমকিতে গ্রনডোনা বলেছিলেন, ‘পদত্যাগ করতে হবে না, তোমাকে বরখাস্ত করা হলো!’ অবশ্য সেই বরখাস্তের হুমকি বাস্তবে রূপ নেয়নি।

কোচ ফেরেরো পরে এই ঘটনার ভিন্ন এক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তার মতে, গ্রনডোনার হুমকিতে নয়, বরং মেসির চোটের কারণেই তিনি প্রথম ম্যাচে তাকে খেলাননি। দলের ডাক্তার দানিয়েল মার্তিনেস (যিনি কাকতালীয়ভাবে চলতি বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার চিকিৎসক দলের সদস্য) কোচকে জানিয়েছিলেন যে মেসির পেশিতে কিছুটা টান রয়েছে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাকে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল। তবে অন্যান্য সিনিয়র খেলোয়াড়দের চাপ এবং দলের প্রয়োজনে পরের ম্যাচেই মেসিকে নামাতে বাধ্য হন কোচ। 

সব নাটকের অবসান ঘটিয়ে ২০০৫ সালের ১৪ জুন মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে শুরুর একাদশে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। বিশ্বমঞ্চে নিজের জাদুকরি উপস্থিতি জানান দিতে তিনি সময় নিয়েছিলেন মাত্র ৪৭ মিনিট। বোকা জুনিয়র্সের হুলিও বারোসোর এক চমৎকার ক্রস থেকে বল পেয়ে মিসরীয় রক্ষণ ভেঙে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন মেসি।

ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে জয়ী হয়। দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন পাবলো জাবালেতা। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মেসিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয়েছিল লুকাস বিগলিয়াকে। মিসরের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক শুরুর পর মেসিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ঠিক আড়াই সপ্তাহ পর সেই টুর্নামেন্টে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল জিতে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি। ২১ বছর পর আজ আবারও সেই মিসরের সামনে দাঁড়িয়ে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি।
মানবকণ্ঠ/এমআর