Image description

ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি মাঠে তাঁর আগ্রাসী নেতৃত্ব ও দাপুটে ব্যাটিংয়ের জন্য ‘দাদা’ নামে পরিচিত। তবে ক্রিকেটের বাইরের জীবনে তাঁর প্রেমের গল্পও কম আলোচিত নয়। দীর্ঘদিনের পারিবারিক শত্রুতা পেরিয়ে ডোনা গাঙ্গুলিকে বিয়ে করার ঘটনাটি আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প।

কলকাতার বেহালার বীরেন রায় রোডে পাশাপাশি ছিল সৌরভ ও ডোনার বাড়ি। দুই পরিবারের মধ্যে একসময় ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলেও পরবর্তীতে সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরে। এর জের ধরে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রায় কোনো যোগাযোগই ছিল না।

কিন্তু পারিবারিক শত্রুতা তাদের ভালোবাসাকে থামাতে পারেনি। ডোনা তখন স্কুলছাত্রী, আর সৌরভ কলেজপড়ুয়া। প্রতিবেশী হিসেবে পরিচয় থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাদের সম্পর্ক। এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সৌরভ নিজেই বলেছিলেন, ফুটবল খেলতে বা বাইরে বের হলে তিনি প্রায়ই ডোনার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। এমনকি বন্ধুদের নিয়ে ডোনার স্কুলের আশপাশেও যেতেন।

ডোনাও এক সাক্ষাৎকারে মজার একটি স্মৃতি তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানান, সৌরভ ব্যাডমিন্টন খেলতে গিয়ে প্রায়ই ‘ভুল করে’ শাটলকক তাঁদের বাড়ির ভেতরে পাঠাতেন। সেটি ফেরত দেওয়ার অজুহাতেই দুজনের মধ্যে চোখের ভাষায় শুরু হয় ভালোবাসার গল্প।

তাদের প্রথম দেখা করার জায়গা ছিল ঢাকুরিয়া লেকের কাছে ‘ম্যান্ডারিন’ নামের একটি রেস্তোরাঁ। তখন ডোনার বয়স ১৭ বছর, আর সৌরভের ২৩। সেই দিনের একটি মজার স্মৃতিও ডোনা পরে শোনান। তিনি বলেন, সৌরভের খাওয়ার পরিমাণ দেখে তিনি বেশ অবাক হয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালে লর্ডসে অভিষেক টেস্টে শতরান করে সৌরভ ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন তারকায় পরিণত হন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তখনও সবচেয়ে বড় বাধা ছিল দুই পরিবারের আপত্তি। শেষ পর্যন্ত একই বছরের আগস্টে পরিবারের অমতে এক বন্ধুর বাড়িতে গোপনে রেজিস্ট্রি বিয়ে করেন সৌরভ ও ডোনা। বিয়ের পরও তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান এবং বিষয়টি কিছুদিন গোপন রাখেন। পরে খবরটি প্রকাশ্যে এলে দুই পরিবারেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ডোনা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিয়ের খবর জানাজানি হওয়ার পর দুই পরিবারই প্রথমে বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং উভয় পরিবার তাঁদের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয়।

অবশেষে ১৯৯৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি রীতিনীতি মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের মধ্য দিয়ে বহু বছরের পারিবারিক শত্রুতারও অবসান ঘটে।

বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সৌরভ ও ডোনার দাম্পত্য জীবন আজও ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ডোনার একটি বক্তব্য তাঁদের প্রেমের গল্পের সবচেয়ে সুন্দর সারসংক্ষেপ হয়ে আছে—‘আমি কোনো ক্রিকেটারকে ভালোবেসে বিয়ে করিনি। আমি ভালোবেসেছিলাম আমার পাশের বাড়ির সেই মানুষটিকে।’