চলতি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন একসময়ের আলোচিত মাদক ও পতিতাবৃত্তি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।
রোববার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
৪৬ বছর বয়সী ভিনচিচ ২০১০ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ২০২৩ উয়েফা নেশনস লিগে স্পেন-ইতালি সেমিফাইনাল এবং ২০২৪ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল পরিচালনা করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে এটি হবে তার ষষ্ঠ ম্যাচ।
তবে ২০২০ সালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিজেলিনা শহরে একটি পুলিশ অভিযানের কারণে তার নাম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ওই অভিযানে মাদক, পতিতাবৃত্তি ও অস্ত্র চক্রের সন্দেহে একটি কেবিনে অভিযান চালিয়ে ভিনচিচকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ৯ নারী, ২৬ পুরুষ, ১৪ প্যাকেট কোকেন, ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং ১০ হাজার ইউরোর বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
তবে ভিনচিচ শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, তিনি কেবল পরিচিত একজনের আমন্ত্রণে দুপুরের খাবার খেতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং ঘটনাটির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলাম। পরে বুঝেছি, সেটিই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’
পরবর্তীতে স্লোভেনিয়া ফুটবল ফেডারেশনও তার পাশে দাঁড়ায়। ফেডারেশনের দাবি ছিল, ভিনচিচ ‘ভুল সময়ে ভুল জায়গায়’ উপস্থিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর তিনি নিয়মিতভাবেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন।
আর্জেন্টিনার সঙ্গে ভিনচিচের একটি স্মৃতিও রয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের অপ্রত্যাশিত হারের ম্যাচেও তিনিই ছিলেন প্রধান রেফারি।
চলতি বিশ্বকাপে তিনি ব্রাজিল-মরক্কো, জর্ডান-আলজেরিয়া এবং মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে তিনি ১৫টি হলুদ ও একটি লাল কার্ড দেখিয়েছেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালে ভিনচিচের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তারই স্বদেশী টমাজ ক্লানচনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচিচ। চতুর্থ রেফারি থাকবেন জর্ডানের আদহাম মাখাদমেহ।
মানবকণ্ঠ/এমআর




Comments