Image description

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি ছিলেন কোটি কোটি সমর্থকের শেষ আশার প্রতীক। কিন্তু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। ইংলিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি ছিল মেসির রূপকথার এক করুণ সমাপ্তি।

বিশ্লেষণে বলা হয়, টুর্নামেন্টজুড়ে যাদুকরী ফুটবল উপহার দেওয়া মেসিকে ফাইনালে যেন খুঁজেই পাওয়া যায়নি। স্পেন ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনাও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

পুরো টুর্নামেন্টে আক্রমণাত্মক ও রোমাঞ্চকর ফুটবল খেললেও ফাইনালে সেই ছন্দের ধারেকাছেও যেতে পারেনি আর্জেন্টিনা। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, বিশ্বকাপের প্রায় শতবর্ষের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো দল ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একটি শটও নিতে পারেনি। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও স্পেনের রক্ষণভাগকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।

মেসির ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে না বলে মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে অসাধারণ এক ক্যারিয়ার গড়েছেন তিনি। এই পরাজয় তার উত্তরাধিকারে বড় কোনো দাগ ফেলবে না। তবে ফাইনালটি জিততে পারলে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে স্পেনের রক্ষণভাগের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। তাদের সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ কৌশল মেসিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেয়। টুর্নামেন্টজুড়ে যিনি একাই অনেক ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন, সেই মেসি ফাইনালে প্রায় অদৃশ্য ছিলেন।

দ্য গার্ডিয়ান আরও লিখেছে, মাঠে সময়কে নিজের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করার বিরল ক্ষমতা ছিল মেসির। প্রতিপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে তিনি বহুবার সময়কে থমকে দিয়েছেন। কিন্তু এই ফাইনাল যেন মনে করিয়ে দিল, সময়ের কাছে শেষ পর্যন্ত সবাইকেই হার মানতে হয়।

পত্রিকাটি স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর কিংবা ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পরও মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তিনি প্রতিবারই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্সে। তবুও এবারের ফাইনাল নতুন করে সেই প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রসঙ্গ টেনে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ও টানা দুটি কোপা আমেরিকা জেতানো এই কোচ দেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল। তবে ফাইনালে দলের পারফরম্যান্স ছিল তার কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম হতাশাজনক অধ্যায়।

বিশ্লেষণের উপসংহারে দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, আর্জেন্টিনা ও মেসির রূপকথার নিখুঁত সমাপ্তি আর হলো না। বিশ্বকাপ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে তারা এমন এক হতাশার জন্ম দিয়েছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে।