Image description

বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা ধরে রাখতে নীতি সহায়তায় আমূল পরিবর্তন ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত রাষ্ট্রীয় কৌশল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

গত ১১ মে (সোমবার) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে দৈনিক বণিক বার্তার উদ্যোগে আয়োজিত ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা ২০২৬’-এর একটি বিশেষ অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথরেখা’ শীর্ষক এই আলোচনায় সরকারের নীতি-নির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল। বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদেরও বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই বাণিজ্য সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে নতুন নতুন বাণিজ্যের সুযোগ খুঁজে বের করা জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের প্রচলিত নীতি সহায়তায় পরিবর্তন এনে নতুন ও কার্যকর নীতি প্রণয়ন করতে হবে।”

গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষাপটে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত হয়ে ব্যবসায়িক খাতের বর্তমান সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের এই গুরুত্বপূর্ণ পথরেখা তৈরিতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই গোলটেবিল বৈঠক থেকে উঠে আসা সুপারিশগুলো সরকারের আগামী বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই