পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর মসলার বাজারে কেনাকাটার চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এলাচ, জিরা ও লবঙ্গের মতো অতিপ্রয়োজনীয় কিছু মসলার দাম। তবে আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় আদা, রসুন ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে মসলার দামের এই চিত্র দেখা গেছে।
বেড়েছে যেসব মসলার দাম:
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসের ব্যবধানে জিরার কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা এবং লবঙ্গের কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি দেখা গেছে এলাচের বাজারে। মানভেদে এলাচের কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে বাজারে এলাচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে।
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার মধ্যে আদা প্রতি কেজি ২০০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মসলার মধ্যে: জিরা: ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা (কেজি), গুঁড়া মরিচ: ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা (কেজি), গুঁড়া হলুদ: ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা (কেজি), দারুচিনি: ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা (কেজি), লবঙ্গ: ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা (কেজি), সাদা গোলমরিচ: ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা (কেজি), কালিজিরা: ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা (কেজি), ঘি: ৩ হাজার ৪০০ টাকা (কেজি), তেজপাতা: ১৮০ টাকা (কেজি)
কারওয়ান বাজারের মসলা ব্যবসায়ী আবুল বাসার বলেন, ঈদের আগে চাহিদা বাড়ায় কিছু মসলার দাম কিছুটা চড়া। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও আমদানি খরচের কারণে এলাচ ও জিরার দাম বেড়েছে। তবে আদা, রসুন বা পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় এগুলোতে বড় কোনো অস্থিরতা নেই।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আব্দুস সালাম নামে এক ক্রেতা জানান, সব মসলার দাম আকাশছোঁয়া না হলেও এলাচ ও লবঙ্গ কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, "কোরবানির ঈদে এসব মসলা ছাড়া চলে না, কিন্তু দাম এতটাই বেশি যে এখন অনেক হিসাব করে কিনতে হচ্ছে।"
সোহেল নামে আরেক ক্রেতা জানান, কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঈদের আগে পকেটে টান পড়ছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের কয়েকদিন আগে পর্যন্ত সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম আর নতুন করে বাড়বে না। তবে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার না থাকলে খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সাধারণ ক্রেতাদের।
__এআর/এমকে




Comments