লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের মধ্যেই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ভয়াবহ হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে মাদুরো সরকার। রাজধানী কারাকাস ছাড়াও মিরান্দা, আরাগুয়া এবং লা গাইরা প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাসে অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের সময় শহরের ওপর দিয়ে বেশ কিছু বিমানকে অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে যেতে দেখা যায়। যদিও এগুলো সরাসরি মার্কিন যুদ্ধবিমান ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
বিস্ফোরণের পরপরই শহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, কারাকাসে এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রই পরিচালনা করছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই আক্রমণকে একটি ‘ঔপনিবেশিক যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, এটি বিশ্বশান্তিকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
হামলার আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট মাদুরো কিছুটা নমনীয় সুর দেখিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি মাদক পাচার দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে তিনি বারবার অভিযোগ করে আসছিলেন যে, ওয়াশিংটন তাঁর সরকারকে উৎখাত করে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।
মাদুরো এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, “তারা যদি তেল চায়, তবে শেভরনের মতো মার্কিন বিনিয়োগের জন্য ভেনেজুয়েলা প্রস্তুত আছে।” কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার মাধ্যমে পরিচালিত মাদক পাচার এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বন্ধ করা।
ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অভিযানের অংশ হিসেবে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযান লক্ষ্য করে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটকের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি সত্য হলে, এটি লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হবে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও মাদুরোর আটক হওয়ার খবরের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments