কিউবায় সামরিক পদক্ষেপের হুমকি ট্রাম্পের, ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরী
ছবি: আল জাজিরা | ছবি: আল জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার কমিউনিস্ট শাসিত সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের কঠোর হুমকি দিয়েছেন। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কিউবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, “কিউবা বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুপক্ষ চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি আরও জানান, কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ এখন আর ‘সুবিধাজনক’ নয়।
একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কয়েক দশক ধরে কিউবায় হস্তক্ষেপের কথা বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনিই সম্ভবত সেই পদক্ষেপটি নিতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, “আমি এই কাজটি করতে পেরে খুশি হবো।”
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ (Regime Change) চেষ্টার অংশ হিসেবে কিউবার ওপর জ্বালানি অবরোধ আরও কঠোর করা হয়েছে, যা দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনীতিকে পতনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে যে, একটি বিমানবাহী রণতরীসহ বেশ কয়েকটি নৌবাহিনীর জাহাজ ক্যারিবীয় অঞ্চলে পৌঁছেছে। একে গত কয়েক দশকের মধ্যে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সামরিক মহড়া ও শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৬ সালে একটি বিমান ভূপাতিত করার দায়ে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে। এর পরদিনই কিউবার প্রভাবশালী সামরিক নিয়ন্ত্রিত সংস্থা ‘গায়েসা’র (GAESA) এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বোনকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। তিনি রুবিওর বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ আখ্যায়িত করে বলেন, “মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিউবান ও আমেরিকানদের রক্তপাত ঘটিয়ে একটি সামরিক আগ্রাসন উসকে দেওয়ার জন্য আবারও মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ক্ষেত্রেও ভেনিজুয়েলার মতো একই কৌশল অবলম্বন করছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি সামরিক অভিযানে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় চীন জানিয়েছে, তারা কিউবাকে ‘দৃঢ়ভাবে সমর্থন’ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তি প্রয়োগের হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানায়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদ্ধতির সমালোচনা করে একে ‘সহিংসতার কাছাকাছি’ বলে অভিহিত করেছেন।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরীর অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের অনড় অবস্থান কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
_এমআর/এমকে




Comments