সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ইসরায়েলগামী 'ফ্লাইদুবাই'-এর একটি ফ্লাইটে সহকারী পাইলটের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েও চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বিমান ও শতাধিক যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ভয়াবহ এই ককপিট সংঘাতের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই আহত পাইলটের সঙ্গে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভিডিও কলে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
স্মিত মাচ্ছারের অসামান্য বীরত্ব ও পেশাদারত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, তাঁর এই সময়োচিত পদক্ষেপ শত শত মানুষের অমূল্য জীবন রক্ষা করেছে। পরে মোদি নিজেই সেই আলাপচারিতার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও রক্তক্ষয়ী এই ঘটনায় বিমানটিকে বড় ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার পুরো কৃতিত্ব ভারতীয় ক্যাপ্টেনের ওপর অর্পণ করেন।
গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে আকাশপথে মারাত্মক এক সংকটের সৃষ্টি হয়। উড়োজাহাজ চালনায় দীর্ঘ ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা এবং ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্মিত মাচ্ছারের ওপর ককপিটের ভেতরেই হঠাৎ অতর্কিত হামলা চালান তাঁর সহকারী পাইলট (ফার্স্ট অফিসার)। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ওমানের নাগরিক ওই সহকারী পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন এবং উড়োজাহাজটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়ে তা বিধ্বস্তে চেষ্টা করেন।
সংকটময় সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে ক্যাপ্টেন মাচ্ছার বলেন, "সহকারী পাইলটের বেপরোয়া হামলায় আমি মারাত্মক আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু ওই অবস্থাতেই আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম যে উড়োজাহাজটি অত্যন্ত দ্রুত নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে। আমি জানতাম, এটিই আমার শেষ সুযোগ এবং ওই নিরীহ মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই মরতে দিতে পারি না।"
তিনি আরও জানান, শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তিনি ককপিটের দরজাটি খুলে দিতে সক্ষম হন। দরজা খোলামাত্রই বিমানে থাকা সাধারণ যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে পড়েন এবং উন্মত্ত সহকারী পাইলটকে ধরে ফেলে নিবৃত্ত করেন। পরবর্তীতে রক্তাত্ত ও আহত ক্যাপ্টেনের দক্ষ নির্দেশনায় উড়োজাহাজটিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের এই রোমাঞ্চকর ও বীরত্বপূর্ণ উদ্ধারকাহিনীর ওপর ভিত্তি করে ঘটনার বিষদ আন্তর্জাতিক তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে পরিকল্পিত উড়োজাহাজ ধ্বংসের চেষ্টা হিসেবেই দেখছে।
ডিআর




Comments