Image description

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে আলিম পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসাথে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

বরখাস্তকৃতরা হলেন— ভুরুঙ্গামারী ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মাওলানা মো. আলতাফ হোসেন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজার ও ট্যাগ অফিসার সাইফুর রহমান।

জানা গেছে, গত বুধবার আলিম পরীক্ষার বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন প্রথম পত্র বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রে নাগেশ্বরী কামিল মাদরাসার একজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী জকিরুল ইসলামকে ভুলবশত নিয়মিত পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে বিষয়টি তার নজরে আসে। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য সঠিক প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করা হয় এবং অতিরিক্ত সময় দিয়ে ওই ছাত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

এই ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার দায়ে কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করার জন্য সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মো. মাহবুবুল আলমকে নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বরখাস্তকৃত কেন্দ্র সচিব মাওলানা মো. আলতাফ হোসেন জানান, ওই অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্রটি তাদের কেন্দ্রে পৌঁছায়নি। প্রশ্নপত্রটি ভুলক্রমে নাগেশ্বরী কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে চলে গিয়েছিল। কেন্দ্র পরিবর্তন হলেও সেখান থেকে সঠিক সময়ে প্রশ্ন পাঠানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী নাগেশ্বরী কামিল মাদরাসার পরীক্ষার্থীরা ভুরুঙ্গামারী কেন্দ্রে এবং ভুরুঙ্গামারীর পরীক্ষার্থীরা নাগেশ্বরী কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের বিষয়টি জানার পরপরই বিকল্প উপায়ে প্রশ্ন সংগ্রহ করে ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল কাজে গাফিলতি ও অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর