Image description

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার বিমানবন্দরটির আকাশপথ প্রায় ফাঁকা ছিল। কোনো উড়োজাহাজকে সেখানে দেখা যায়নি।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও যাত্রীসেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পরিচালনগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতেই সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে অন্তত চারবার রিয়াদে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এর মধ্যে গত শনিবারের হামলাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই দিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩০০ জনের বেশি। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদির এই অঞ্চলে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

এর পরদিন রোববার আবারও কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, রোববার নির্ধারিত ফ্লাইটের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করা হয়। সোমবার বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যেও দেখা যায়, উড়োজাহাজগুলো রিয়াদ এড়িয়ে চলেছে।

তবে সৌদির অন্যান্য বিমানবন্দর সচল রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সৌদির আকাশসীমা ব্যবহার করে পশ্চিম উপকূলের প্রধান বিমান চলাচলকেন্দ্র জেদ্দায় অবতরণ করেছে।

পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি বিমান সংস্থা রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার ফ্রান্স-কেএলএমও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ চলতি মাস পর্যন্ত বাড়িয়েছে। একই পথে রয়েছে আবুধাবিভিত্তিক ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। ফলে সোমবার ও মঙ্গলবার রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামগামী প্রায় ২০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে সৌদির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশও নাগরিকদের সতর্ক করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পর সোমবার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সৌদি আরব ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

হুথিদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় সৌদি আরবের অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেল খাতসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাবের কারণে চলতি বছর দেশটির প্রকৃত জিডিপি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এসএস