Image description

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পাঁচ তলার স্টোর রুমে অগ্নিকান্ডে দুইজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তাদের স্বজনরা। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে সেখানে আগুন লাগার তথ্য দেন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু গিফারী।

তারা বলছেন, আগুন ও ধোয়ায় আতঙ্কিত হয়ে অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন তারা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউ মারা যায়নি বলে দাবি করেছে।

এছাড়া আগুন নেভাতে গিয়ে হাসপাতালের তিন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- পটুয়াখালী সদরের বরপুরের বাসিন্দা কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং নগরীর বারৈজ্জার হাটের এলাকার আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)।

আহত আনসার সদস্যরা হলেন-মো. রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবুজর গিফারী বলেন, রাত ১১টার সময় হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পাঁচতলায় অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে সেখানে যায় তাদের তিনটি ইউনিট। সেখানে বিছানার ফোম রাখার স্টোর রুমে আগুন লাগে। ১০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। পুরোপুরি নেভাতে ৪০ মিনিট লেগেছে। কক্ষে ফোম, বিছানার চাদর ও বালিশ থাকায় ব্যাপক ধোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সিগারেটের আগুন অথবা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। বিষয়টি তদন্তের পর বলা যাবে।

প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের স্টাফ ও ভর্তিরত রোগীরা বলেন, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভবনটির বিভিন্ন তলায় থাকায় রোগী, স্বজন, হাসপাতালের স্টাফ, নার্স ও চিকিৎসকসহ সবাই হুড়োহুড়ি শুরু করে নিচে নামেন। যে যেভাবে পারেন রোগীকে নিয়ে ভবনের বাইরে সড়কে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে সেখানে থাকা ব্যক্তি এবং হাসপাতালের কর্মীরা মিলে এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি।

নিহত কাজী আতাউর রহমানের নাতি মোমিন কাজী বলেন, চতুর্থ তলায় ভর্তি ছিলেন তার নানা। তার ইনহেলার ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। কিন্তু আগুন লাগার পর অক্সিজেন ছাড়া নিচে নামানো হয়। কিছুক্ষণ পড়ে তিনি মারা যান। নিহত আরেকজন আবুল হোসেনের ছেলে বলেন, তার বাবা অসুস্থ হয়ে গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ছিলেন। রাতের বেলা মা ও বোনকে বাবার কাছে রেখে বাড়িতে যান। আগুনের খবরে ৩০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে এসে বাবাকে মৃত্যু অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. আবুল মুনায়েম বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ডের কর্নারে একটি স্থানে অগ্নিকান্ড হয়েছে। তবে ওই ওয়ার্ডের মাত্র দুটি ইউনিটে রোগী ভর্তি ছিল। তাৎক্ষণিক নিরাপদে রোগীদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।