Image description

দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুকে নিয়ে জাহাজটি নিরাপদে প্রণালি পার হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক। জাহাজের অতিরিক্ত চিফ অফিসার প্রণয় সাহাও ক্ষুদে বার্তায় নিরাপদে হরমুজ অতিক্রমের তথ্য জানিয়েছেন।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জাহাজটি কার্যত পারস্য উপসাগরে আটকে ছিল। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাসের সময় জাহাজটির কাছাকাছি এলাকায় ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সে সময় অল্পের জন্য রক্ষা পান জাহাজে থাকা নাবিকরা।

প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় কয়েক দফা চেষ্টা করেও যাত্রা শুরু করতে পারেনি জাহাজটি। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিএসসি সমন্বিতভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করে।

একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর চতুর্থবারের চেষ্টায় সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয় ‘বাংলার জয়যাত্রা’। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রণালির উদ্দেশে রওনা হওয়ার খবর জানান অতিরিক্ত চিফ অফিসার প্রণয় সাহা। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি নিশ্চিত করেন যে জাহাজটি নিরাপদে প্রণালি পেরিয়ে গেছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার এই বাল্ক ক্যারিয়ার বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে বাংকারিং এবং প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশে এখনও প্রায় ১,৬০০ জাহাজ আটকে রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ও উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় আবারও প্রণালি অতিক্রমের সুযোগ তৈরি হয়, যার ফলেই সফলভাবে যাত্রা অব্যাহত রাখতে পেরেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।