ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সারাদেশ। গত কয়েক দিনের মধ্যে রোববার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তেই বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো সূচি ছাড়াই দিন-রাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
কোথাও ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১২ ঘণ্টা, আবার কোথাও ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। এতে গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবা। বিদ্যুৎ সংকটে পোলট্রি খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে, বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা। রংপুর, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশালে পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি খারাপ।
সরকারি কোম্পানিগুলোর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত অধিকাংশ সময়ই সারাদেশে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে। বিকেল ৩টায় দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫১ মেগাওয়াট। ওই সময় লোডশেডিং করা হয় রেকর্ড ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট।
এর আগে গত ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান গ্যাস সংকটের পাশাপাশি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকা এবং ভারত থেকে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে দৈনিক ৯৯ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। গ্যাস থেকে আগে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও বর্তমানে গড়ে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো উৎপাদন হচ্ছে।
এসএস




Comments