Image description

এলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ‘গ্রক’ এর মাধ্যমে তৈরি করা যৌনতাপূর্ণ এআই ডিপফেক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান প্রসিকিউটর।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা এক বিবৃতিতে এই তদন্তের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহে মাস্কের কোম্পানির মাধ্যমে তৈরি করা এবং অনলাইনে পোস্ট করা বিপুল পরিমাণ অসম্মতিমূলক ও যৌনতাপূর্ণ ছবি বা উপকরণের রিপোর্ট অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

গ্রক-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এর আগে জানিয়েছিল, “অবৈধ কনটেন্ট তৈরির জন্য যারা গ্রক ব্যবহার করবে বা প্রম্পট দেবে, তাদেরও অবৈধ কনটেন্ট আপলোড করার মতোই আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

ক্যালিফোর্নিয়ার এই তদন্ত এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বোন্টা জানান, এই কৃত্রিম ছবিগুলোতে নারী ও শিশুদের নগ্ন ও যৌন আবেদনময়ী অবস্থায় চিত্রিত করা হচ্ছে, যা ইন্টারনেটে মানুষকে হেনস্তা করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যা ‘শিকারিদের প্রজনন ক্ষেত্র’ হিসেবে কাজ করে—তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

এদিকে এলন মাস্ক তার এক পোস্টে দাবি করেছেন, গ্রক-এর মাধ্যমে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নগ্ন ছবি তৈরির বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি আরও বলেন, “গ্রক নিজে থেকে কোনো ছবি তৈরি করে না, এটি কেবল ব্যবহারকারীর দেওয়া নির্দেশ বা অনুরোধ অনুযায়ী কাজ করে।” মাস্কের মতে, এক্স-এর সমালোচকরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রক বিতর্ককে ‘সেন্সরশিপের অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করছেন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর অ্যাপল এবং গুগলকে তাদের অ্যাপ স্টোর থেকে ‘এক্স’ এবং ‘গ্রক’ সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এই অনুরোধের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক্স তাদের ইমেজ জেনারেশন টুলটি শুধুমাত্র পেইড সাবস্ক্রাইবার বা অর্থ প্রদানকারী গ্রাহকদের জন্য সীমিত করে দেয়।

বর্তমানে এই ইস্যুটি একটি আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা যা পোস্ট করে, তার জন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দায়বদ্ধ কি না। ১৯৯৬ সালের ‘কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্ট’-এর ২৩০ নম্বর ধারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর তৈরি কনটেন্টের জন্য আইনি সুরক্ষা প্রদান করে।

তবে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেমস গ্রিমেলম্যান যুক্তি দিয়েছেন যে, এই আইন শুধুমাত্র থার্ড-পার্টি বা ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, প্ল্যাটফর্ম নিজে যা তৈরি করে তার জন্য নয়। তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে নিজেই ছবিগুলো তৈরি করছে, তাই এটি ২৩০ ধারার সুরক্ষার আওতায় পড়বে না।”

যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’ ইতিমধ্যেই গ্রক নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। যদি প্রমাণিত হয় যে প্ল্যাটফর্মটি আইন লঙ্ঘন করেছে, তবে তাদের বিশ্বব্যাপী আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির এমপিদের বলেন, মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স তাদের ‘স্ব-নিয়ন্ত্রণের অধিকার’ হারাতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “যদি এক্স গ্রককে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে আমরা (সরকার) করব।”