Image description

খুব শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে শিশুতোষ চলচিত্র "গুপ্তধনের খোঁজে"। এই সিনেমায় টার্জান এর ভূমিকায় অভিনয় করেছে কিশোর অভিনেতা ইরফান রহমান। 

সম্প্রতি মানবকন্ঠের প্রতিবেদক সামিউল ইসলামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার এ সিনেমার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রথমে যখন আমি এই যাত্রাটা শুরু করি, তখন সত্যি বলতে আমি নিজেও এতদূর কিছু ভাবিনি। সিনেমায় অভিনয় করবএই চিন্তাটা আমার কাছে একসময় স্বপ্নের মতো ছিল। ছোটবেলা থেকেই কোথাও না কোথাও ভালো কিছু করার একটা ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সেটা যে এত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেবে, তা আমি কল্পনাও করিনি।

আমি সবসময়ই চাইতাম এমন কাজ করতে, যেটা শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জন্য কিছু বার্তা রেখে যায়। এমন কাজ, যা দেখে কেউ অন্তত কিছু শিখতে পারে, ভাবতে পারে। আমার কাছে অভিনয় শুধু ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলা নয় এটা একটা দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি, একজন অভিনেতার কাজের প্রভাব দর্শকের উপর পড়ে, আর সেই প্রভাব যেন ইতিবাচক হয়, সেই জায়গাটা আমি সবসময় মাথায় রাখি।

প্রশ্ন : কিভাবে শুরু হয়েছিল? 

আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল কণ্ঠশিল্পী বা ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে। সেখানেও আমি বেশ কিছু ভালো কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সেই অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, শিখিয়েছে কীভাবে অনুভূতিকে শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হয়। এরপর আমি অভিনয়ের জগতে আসি। অভিনয়ের দুনিয়ায় আসার পেছনে আমার মূল মোটিভেশন ছিল একটাই—আমি এমন কোনো কাজ করতে চাই না, যার মাধ্যমে কারও ক্ষতি হয় বা কেউ ভুল কিছু শিখে ফেলে।

আমি সবসময় চেষ্টা করেছি ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে, ভালো মানুষের সঙ্গে কাজ করতে এবং এমন প্রজেক্ট বেছে নিতে যেটা দর্শকের জন্য অর্থবহ হবে। এই চিন্তা থেকেই আমি এগিয়ে গেছি।

ঠিক সেই ভাবনা থেকেই যুক্ত হই শিশুতোষ চলচ্চিত্র “গুপ্তধনের খোঁজে”-তে। এক রহস্যময় গুপ্তধনের সন্ধানকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমাটি পরিচালনা করছেন । সিনেমাটিতে রয়েছে রহস্য, ইতিহাস, বন্ধুত্ব, সাহসিকতা এবং রোমাঞ্চকর অভিযান। গল্পে দেখা যাবে, ইতিহাসের সূত্র ধরে একদল কিশোর-কিশোরী নেমে পড়ে এক ভয়ংকর অভিযানে, যেখানে প্রতিটি ধাপে অপেক্ষা করছে নতুন রহস্য।

প্রশ্ন: সিনেমাটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?  

“গুপ্তধনের খোঁজে” সিনেমাটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার জন্য খুবই বিশেষ। এই সিনেমাটা করার পর আমার নিজের কাছেই মনে হয়েছে, এটি এমন একটি কাজ যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য অনেক কিছু শেখার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বড়রাও এটি উপভোগ করতে পারবে, কারণ গল্পে যেমন আছে অ্যাডভেঞ্চার ও কৌতূহল, তেমনি আছে শেখার মতো অনেক বিষয়।

বাংলাদেশে শিশুতোষ চলচ্চিত্র খুব বেশি তৈরি হয় না। তাই এই ধরনের একটি প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সত্যিই আনন্দের এবং গর্বের বিষয়। যখন প্রথম এই গল্পটা আমার কাছে আসে, তখন আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। কারণ তখনো আমি খুব বেশি কাজ করিনি—মাত্র একটি নাটক এবং দুটি সরকারি বিজ্ঞাপনে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল আমার। অভিনয়ের জগতে আমার যাত্রা তখন মাত্র ছয় মাসের মতো। এই অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য ছিল অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা।

প্রশ্ন: এই সিনেমাতে অভিনয় করতে গিয়ে কিকি প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে? 

এই সিনেমায় আমার চরিত্রটা আমার নিজের থেকে একদম আলাদা। চরিত্রটি করতে গিয়ে আমাকে নিজেকে অনেক ভাঙতে হয়েছে, নতুনভাবে গড়ে তুলতে হয়েছে। অনেক সময় নিজের স্বভাবের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয়েছে, যা একজন অভিনেতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও সহজ ছিল না। বিশেষ করে জঙ্গলে শুটিং হওয়ায় আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। গাছপালার কাঁটা, পোকামাকড়, নানা ধরনের অস্বস্তি—সবকিছু পার করেই কাজ করতে হয়েছে। কিন্তু সেই কষ্টগুলোকে আমরা কেউই বড় করে দেখিনি, কারণ আমাদের লক্ষ্য ছিল একটাই—একটি ভালো মানের কাজ দর্শকদের সামনে তুলে ধরা

প্রশ্ন: সিনেমার ওভার অল কাজ নিয়ে যদি কিছু বলেন? 

সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওমর তন্ময় ফিয়ান, সৌহার্দ্য চৌধুরী, যায়ান মুহাম্মদ রুয়াইফি, তাহানি শামস নাওমি, ইরফান রহমান, সাইফ খান, নুসরাত আফরিন ইয়ুমনা, মনিরুল ইসলাম, নিশক তারেক আজিজ, রুহনাজ নাওয়ার কাশফিসহ আরও অনেকে।

পরিচালক রাইসুল ইসলাম অনিক স্যার মনে করেন, বাংলাদেশের শিশু-কিশোর দর্শকদের জন্য মানসম্মত অ্যাডভেঞ্চারধর্মী চলচ্চিত্র খুব কম নির্মিত হয়। সেই জায়গা থেকেই “গুপ্তধনের খোঁজে” নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মাতাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র তৈরি করা, যেখানে শুধু বিনোদন নয়, বরং শিশুদের কল্পনাশক্তি, সাহসিকতা, ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহ এবং বন্ধুত্বের মূল্যবোধও ফুটে উঠবে।

সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন মডেল-অভিনেতা। গল্পও লিখেছেন তিনি। চিত্রনাট্য করেছেন নিজাম ইউ খান, রাইসুল ইসলাম অনিক এবং রাসিদুর রহমান। সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে ব্যানারে, সহপ্রযোজক হিসেবে রয়েছে ।

খুব শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে “গুপ্তধনের খোঁজে”। নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে। পরিচালক অনিক এর আগে “ইতি চিত্রা” ও “বিশ্বাস করেন ভাই” নামের দুটি সিনেমাও নির্মাণ করেছেন।

প্রশ্ন: সবশেষে কি বলতে চান? 

সবকিছুর শেষে আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই—আমি ভবিষ্যতেও এমন কাজের সঙ্গেই থাকতে চাই, যেটা শুধু বিনোদন না দিয়ে মানুষের জন্য কিছু শিক্ষা রেখে যায়। আমি চাই দর্শক আমার কাজ দেখে কিছু ভাবুক, শিখুক এবং ভালো কিছু গ্রহণ করুক। এটাই আমার যাত্রার মূল উদ্দেশ্য, এবং ভবিষ্যতেও আমি সেই পথেই এগিয়ে যেতে চাই।