খুলনার পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদ থেকে পুনরায় এক যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের আগড়ঘাটা পালপাড়া এলাকার নদীর চরে মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা।
বারবার নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে আগড়ঘাটা পালপাড়া এলাকায় নদীর চরে একটি মরদেহ আটকে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। সকাল ৯টার দিকে পাইকগাছা থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধারকৃত মরদেহটি গত ৬ জানুয়ারি সাতক্ষীরার তালা থানার বলিয়া ঘাট থেকে নিখোঁজ হওয়া রবিউল গাজীর (৪০) বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। রবিউল পাইকগাছার গদাইপুর ইউনিয়নের মুনছুর গাজীর ছেলে।
জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি বলিয়া ঘাটে খেয়া পারাপারের সময় মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে রবিউল গাজী নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। তিন দিন পর আজ সকালে তার মরদেহ পাইকগাছার ফুলতলা খেয়াঘাট সংলগ্ন চরে ভেসে ওঠে। ঘটনাস্থলে রবিউলের স্বজনরা উপস্থিত হয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেছেন।
এদিকে, গত কয়েক মাসে কপোতাক্ষ নদের বিভিন্ন পয়েন্টে একের পর এক ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—নদীপথ কি এখন মরদেহ ফেলার নিরাপদ স্থানে পরিণত হচ্ছে? অনেক ক্ষেত্রে মরদেহর পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ অস্পষ্ট থাকায় এই উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি তালা থানা এলাকায় নিখোঁজ হওয়া রবিউল গাজীর মরদেহ। তিনি মৃগী রোগী ছিলেন এবং নদী পার হতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। তবে প্রতিটি মরদেহর ক্ষেত্রেই আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু।"
কপোতাক্ষের স্রোতে ভেসে আসা এই ধারাবাহিক মরদেহগুলোর প্রকৃতি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, নাকি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা উদঘাটনে প্রশাসনের আরও জোরালো তৎপরতা কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments