আলু উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা জয়পুরহাটে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর আলুর ক্ষেত। একদিকে বাজারে আলুর দরপতন, অন্যদিকে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার পাঁচ উপজেলার হাজারো কৃষক।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে মাইলের পর মাইল আলুর জমি নিমজ্জিত হয়ে আছে। অনেক কৃষক পচন থেকে ফসল রক্ষা করতে কাদা-পানির মধ্যেই আলু তোলার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ তোলা আলু রাস্তার ধারে বা বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে শুকানোর চেষ্টা করছেন। শ্রমিকের চড়া দাম এবং সংকট থাকায় অনেক পরিবারে পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুদেরও ক্ষেত থেকে আলু তুলতে দেখা গেছে।

পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের আলু চাষি মো. হানিফ জানান, এ বছর তিনি প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ১৫ বিঘা জমির আলু ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকি ৪৫ বিঘা জমির আলু এখন পানির নিচে। এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
একই উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের ঢাকরপাড়া গ্রামের আজিজুল হক ও ওয়াহেদ মণ্ডল জানান, শুক্রবার ভোর থেকে হঠাৎ বৃষ্টিতে তাদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। পচন ধরার ভয়ে তারা পানির নিচ থেকেই আলু তুলছেন, তবে এই আলু কতদিন সংরক্ষণ করা যাবে তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম জানান, জেলায় শুক্রবার ৩২.০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে আলু, গম ও সবজিসহ প্রায় ১০১ হেক্টর জমি জলবদ্ধতার শিকার হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, এ বছর জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments