Image description

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ গুথুমা শান্তিপাড়া ও জামবিল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২৯ বছরে একবারও সংস্কার না হওয়ায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এখানকার প্রায় ৪০০ বাসিন্দা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত এই প্রকল্প দুটির বর্তমান দশা অত্যন্ত করুণ। চালের টিনগুলো মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্র হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্র ভিজে যায়। ৭০টি পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে এবং শৌচাগারগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রহিমা আক্তার (৫৫) বলেন, "বৃষ্টি শুরু হলে কাঁথা-বালিশ আর ছেলেমেয়েদের বইখাতা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ি। দিনে বৃষ্টি হলে কিছু রক্ষা করতে পারি, কিন্তু রাতে বৃষ্টি হলে সব ভিজে যায়। তখন আর ঘুমানোর জায়গা থাকে না।" আরেক বাসিন্দা বারেক মিয়া (৬৯) আক্ষেপ করে বলেন, "শুয়ে থাকলে ঘরের চাল দিয়ে আসমান দেখা যায়। নুন আনতে পান্তা ফুরায়, ঘর মেরামত করার টাকা পাব কই?"

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরে ধরণা দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরশুরাম মাদ্রাসার ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস জানান, গত দেড় যুগ ধরে এখানকার মানুষ চরম কষ্টে আছেন। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের এমপি রফিকুল আলম মজনু মহোদয় এই অসহায় মানুষদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল মনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংস্কারের কোনো তহবিল থাকে না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া সুলতানা বলেন, "আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়টি আমার নজরে আছে। আমি জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্যারের সাথে কথা বলে দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই জরাজীর্ণ এই ঘরগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।

মানবকণ্ঠ/আরআই