Image description

একটা সময় ছিল—বিকেল মানেই মাঠ, আর মাঠ মানেই জীবন। ধুলোমাখা সেই প্রান্তরে ছুটে চলা শিশুদের হাসি, ফুটবলের লাথি, ক্রিকেট বলের শব্দ—সব মিলিয়ে গড়ে উঠতো এক অনির্বচনীয় প্রাণচাঞ্চল্য। কিন্তু সময়ের নির্মম পালাবদলে সেই দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি।

বিয়ানীবাজারে একের পর এক খোলা মাঠ, সবুজ প্রান্তর আর কৃষিজমি হারিয়ে গিয়ে জায়গা করে নিয়েছে কংক্রিটের দেয়াল, বহুতল ভবন আর বাণিজ্যিক স্থাপনা। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম যে মাঠকে আপন করে বড় হয়েছে, আজ সেই মাঠই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে দুর্লভ সম্পদ।

এই সংকুচিত বাস্তবতায় খেলাধুলা থেমে থাকেনি, বরং বদলে নিয়েছে তার ঠিকানা। খোলা আকাশের নিচের বিস্তীর্ণ মাঠের পরিবর্তে এখন তরুণদের ভরসা কৃত্রিম টার্ফে ঘেরা ইনডোর স্টেডিয়াম।

ব্যাংক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, “খেলার মধ্যে যে প্রশান্তি, সেটা অন্য কোথাও নেই। বিয়ানীবাজারে এসে প্রথমে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছিল। কিন্তু ইনডোর মাঠে আবার সেই হারানো আনন্দ কিছুটা ফিরে পেয়েছি।”

তিনি জানান, দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতই এখন তাদের খেলাধুলার একমাত্র সময়।

নির্মাণাধীন একটি ইনডোর মাঠের দায়িত্বশীল মাহমুদ সামি কামাল বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছোট পরিসরের ইনডোর মাঠই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত থাকে সর্বোচ্চ চাপ, তখন চাহিদা যেমন বাড়ে, খরচও তেমন বাড়ে।”

উদ্যোক্তা মোস্তফা উদ্দিন বাদল জানান, “মাঠ নেই বললেই চলে, কিন্তু খেলাধুলার আগ্রহ কমেনি। সেই চাহিদা থেকেই আমরা বিনিয়োগ করছি। তবে জমি, টার্ফ, বিদ্যুৎ—সব মিলিয়ে এটি সহজ কোনো ব্যবসা নয়।”

বিয়ানীবাজার ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ বলেন, “ইনডোর মাঠ এখন শুধু খেলার জায়গা নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে একত্রিত হন।”