আমি যদি মরে যাই, তোদের কারণে যেন গাছটা নষ্ট না হয় মৃত্যুর আগে বাবার দেওয়া এই শেষ উপদেশই জীবনের দায়িত্ব হিসেবে ধরে রেখেছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের গিলাবের গ্রামের মো. সাদেক ভুইয়া।
প্রায় ২৫ বছর ধরে বাবার স্মৃতিবিজড়িত একটি লটকন গাছকে সন্তানের মতো করে আগলে রেখেছেন তিনি। সেই দীর্ঘ যত্ন ও ভালোবাসার ফল হিসেবে এবার গাছে এসেছে প্রায় ৮ মণ লটকন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল গাছটি ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। গাছের গোড়া থেকে ডালপালা পর্যন্ত থোকায় থোকায় ঝুলছে অসংখ্য লটকন। গাছ ও ফল রক্ষায় চারপাশে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।
সাদেক ভুইয়া বলেন, তার বাবা ছোটবেলায় এই গাছের দায়িত্ব তাকে দিয়ে যান। সেই সময় থেকেই তিনি নিয়মিত যত্ন করে আসছেন। তার ভাষায়, “আল্লাহর রহমতে প্রতিবছরই ভালো ফলন হয়। এবার প্রায় ৮ মণ লটকন হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গাছটি দেখতে আসে, এতে আমি আনন্দ পাই।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ গাছটি দেখতে ভিড় করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাছটির ছবি ছড়িয়ে পড়ায় আগ্রহ আরও বেড়েছে।
গাছটি দেখতে আসা কৃষি উদ্যোক্তা ফেরদৌস মিয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, “এত বড় একটি লটকন গাছে একসঙ্গে এত ফল আমরা খুব কমই দেখেছি। এটি সত্যিই বিস্ময়কর। যত্ন আর প্রকৃতির মিলনে এমন ফলন সম্ভব।”
জয়নগর ইউনিয়ন দেশের অন্যতম লটকন উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রায় এক শতাব্দী আগে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ শুরু হয়। লালচে অম্লীয় মাটি হওয়ায় এখানে লটকনসহ বিভিন্ন ফলের চাষ ব্যাপকভাবে হয় এবং তা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সাদেক ভুইয়ার এই গাছ এখন শুধু একটি ফলগাছ নয়—এটি বাবার প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও দীর্ঘ ধৈর্যের এক অনন্য প্রতীক, যা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments