Image description

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা চত্বরের ভেতরে অবস্থিত একটি পুরোনো ওয়াক্‌ফকৃত মসজিদ বর্তমানে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একইসঙ্গে রাতের অন্ধকারে মসজিদ প্রাঙ্গণ মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ের এমন অবমাননায় স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণের পর থেকেই এই পুরোনো মসজিদটিতে নামাজ আদায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে মসজিদের মূল অবকাঠামো, মিহরাব এবং কিবলামুখী নকশা এখনো অক্ষত রয়েছে। বর্তমানে এই পবিত্র ভবনটিকে সরকারি মালামাল সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মসজিদের ভেতরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিপুল পরিমাণ বই এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের মালামাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় রাতের বেলায় মসজিদটির চারপাশে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষায় কোনো উদ্যোগ না থাকায় এলাকাটি এখন মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় আলেমদের মতে, ওয়াক্‌ফকৃত কোনো মসজিদের ব্যবহার পরিবর্তন বা অবমাননা করা ধর্মীয় ও আইনিভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, "মসজিদটি এখন আর নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয় না বিধায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই আমরা সেখানে বই রেখেছি।"

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ পারভেজ বলেন, "যেহেতু পাশেই আধুনিক মডেল মসজিদ নির্মিত হয়েছে, তাই এই পুরোনো ভবনটির আর প্রয়োজন নেই। বই রাখার জন্য সাময়িকভাবে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমরা ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। অনুমতি পেলে এটি সরিয়ে ফেলা হবে।" এছাড়া মাদকের আড্ডার বিষয়ে তিনি জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ দাবি জানিয়েছেন, মসজিদটি ভেঙে ফেলার আগে বা গুদাম হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে এর ধর্মীয় পবিত্রতা বজায় রাখা এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মানবকণ্ঠ/ডিআর