Image description

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থের অনিয়ম, বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে কমিশন গ্রহণ এবং সরকারি চাকরির পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি, কারণ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বরাদ্দকৃত ক্ষুদ্র মেরামত, রুটিন মেইনটেন্যান্স, স্লিপসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ বণ্টনে অনিয়মের মাধ্যমে তিনি সুবিধা নিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে বরাদ্দের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ কমিশন হিসেবে নেওয়া হতো।

এছাড়া, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে কিছু বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদানের পর বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে এবং একাধিকবার বদলি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে হোমনায় কর্মরত থাকলেও তিনি নিজ জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কুমিল্লা মহানগরীর একটি বেসরকারি ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘আল বিরুনি প্যালেস’-এর পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী, সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো সরকারি কর্মচারী লাভজনক ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন না। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তবে একজন সরকারি কর্মকর্তার এত সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের উৎস কী?

এ বিষয়ে হোমনা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারজানা শেলী বলেন, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় যুক্ত থাকতে পারেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বরাদ্দ, ঋণের কাগজপত্রে স্বাক্ষর, প্রশিক্ষণে মনোনয়ন এবং বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করা হতো। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হানিফ মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানবকন্ঠ/এসএস