Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে হল শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসী উদ্দিন তামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

অব্যাহতি পাওয়া তিন নেতা হলেন—জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক চন্দন দাস, ঝলক দাস এবং রিপন চন্দ্র সরকার। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ঘটনার বিবরণ: ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের নিচে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় এই ঘটনার সূত্রপাত। হাঁটুতে সমস্যা থাকার কারণে ওই শিক্ষার্থী দোকানে পা তুলে বসেছিলেন। তখন অভিযুক্ত চন্দন ও ঝলক সেখানে এসে তাকে পা নামাতে বলেন এবং অশালীন আচরণ করেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী তার রুমে ফিরলে চন্দন, ঝলক, রিপন ও সাগর নামের চারজন তার রুমে ঢুকে তাকে সংঘবদ্ধভাবে শারীরিক নির্যাতন করেন এবং থাপ্পড় মারেন। এমনকি তাকে আবারও নিচে দেখা গেলে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, "একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর রুমে গিয়ে এভাবে হামলা করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি জগন্নাথ হলের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।"

হল প্রশাসনের পদক্ষেপ: এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জগন্নাথ হল প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক দেবাশীষ পাল জানান, বিষয়টি জানার পরপরই ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল হালদারকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষকদের নিয়ে এই কমিটি করা হয়েছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তা প্রক্টর বরাবর পাঠানো হবে।

ছাত্রদলের এই দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপ এবং হল প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এই ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/আরআই