Image description

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা ও একাডেমিক অভিযোগ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও একাডেমিক সমস্যা সমাধানে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এর আগে নিখোঁজ শিক্ষার্থী কাজী মোহাইমিনুল ইসলামের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে সন্ধান পাওয়ার খবর আসে।

উপাচার্য বলেন, “তোমাদের যেকোনো সমস্যা হলে সরাসরি প্রশাসনের কাছে আসবে। তোমাদের কথা আমরা শুনব। ন্যায্যতার ভিত্তিতে যেটা করা দরকার, সেটা করার চেষ্টা করব। কোনো সমস্যায় পড়ে নিজেদের গুটিয়ে রাখবে না।”

শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে তাঁদের অবস্থান বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জায়গায় নিজেদের কল্পনা করে তাঁদের সমস্যাগুলো বিবেচনা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। মোহাইমিনুলের বিষয়টি জানার পর দ্রুত কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে প্রশাসন কাজ করেছে।

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন সম্পন্ন করে সনদ অর্জন এবং কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এ ক্ষেত্রে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করা হবে।

এদিকে, মোহাইমিনুলের একাডেমিক বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তির পর কমিটি পুনর্গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছিল বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

পুনর্গঠিত কমিটিতে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হুসাইন মো. সায়েমের পরিবর্তে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানসুরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে। মোহাইমিনুলের মতো অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের সমস্যা থাকলে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।

ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা মোহাইমিনুলের একটি কোর্সে অকৃতকার্য হওয়া এবং পরীক্ষার উত্তরপত্রের মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তাঁরা। জবাবে উপাচার্য বলেন, তদন্ত কমিটি বিষয়টির সব দিক খতিয়ে দেখবে।

কোনো সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের পুনরায় প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে তাঁদের পরামর্শ দেন।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৮ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠার পর মোহাইমিনুলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাঁর আবাসিক কক্ষ থেকে কয়েকটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিগুলোতে বিভাগের অবহেলা নিয়ে অভিযোগ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সাভার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

সোমবার কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এসএ