চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের চার্লি অ্যাংকরেজ এলাকায় নোঙর করা একটি বিদেশি জাহাজে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। নোঙর করার ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে পাঁচটি নৌকায় আসা প্রায় ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জাহাজে উঠে মূল্যবান রশি, ব্যাটারি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড ঘটনাস্থলে গেলেও তার আগেই অভিযুক্তরা সরে পড়ে।
বন্দর-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ট্যাংকার এমটি তাই শিউয়েন হংকং থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। জাহাজটি সীতাকুণ্ডের একটি জাহাজ পুনর্ব্যবহার (শিপ রিসাইক্লিং) প্রতিষ্ঠানে স্ক্র্যাপ হিসেবে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল।
অভিযোগ রয়েছে, রাত প্রায় ১টার দিকে পাঁচটি ছোট কাঠের নৌকায় করে প্রায় ২০ জনের একটি সংগঠিত চক্র জাহাজে উঠে পড়ে। সে সময় নোঙর ফেলতে ব্যস্ত নাবিকদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা জাহাজের ডেকে থাকা ব্যাটারি, মোটা মুরিং রোপসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত সরে যায়।
জাহাজের ইন্দোনেশীয় অধিনায়ক তাৎক্ষণিকভাবে রেডিও কন্ট্রোলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে কোস্টগার্ডকে জানানো হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেরিন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।
জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট বেনলাইন শিপিংয়ের কর্ণধার মোশাররফ হোসেন বলেন, পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। একটি দল নাবিকদের ব্যস্ত রেখে অন্য দলটি জাহাজের সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই চক্রটি এলাকা ত্যাগ করে।
তার ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং চার্লি অ্যাংকরেজ এলাকায় নিয়মিত উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। মাছ ধরার নৌকার ছদ্মবেশে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র জাহাজের আশপাশে অবস্থান নেয় এবং সুযোগ পেলেই জাহাজে উঠে চুরি চালায়। গত এক মাসে তার প্রতিষ্ঠানের তিনটি জাহাজ একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে।
শিপিং খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহির্নোঙরে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার না হলে এ ধরনের সংঘবদ্ধ চুরির পুনরাবৃত্তি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা দেবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সুনামেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
মানবকণ্ঠ/এমআর




Comments