রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা বাজার এলাকার একটি জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ চুরি হয়েছে। রোববার গভীর রাতের এ ঘটনায় ৭০ ভরি স্বর্ণ ও ৬০০ ভরি রূপা চুরি হয় বলে দাবি করেন জুয়েলার্সের মালিক। এ ছাড়া নগদ চার লাখ টাকাও খোয়া গেছে। চুরি হওয়া স্বর্ণের বাজারমূল্য দেড় কোটি এবং রূপার মূল্য ২১ লাখ টাকার মতো।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। তবে ঘটনাটি নিছক চুরি, নাকি অন্য কোনো বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ কিছু পয়েন্টে খটকা লেগেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার করা গেলে প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।
জুয়েলার্সের মালিক মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, রোববার রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় যান তিনি। আজ সকাল ১০টায় দোকান খোলার সময় দেখেন, কলাপসিবল গেট ও সাটারের তালা ভাঙা। এরপর ভেতরে ঢুকে সব কিছু ভাঙচুর করা অবস্থায় পান। দোকানে থাকা সিন্দুকসহ সব স্বর্ণ ও রূপা নিয়ে গেছে চোররা। চুরি যাওয়া স্বর্ণের মধ্যে ৫০ ভরি তাঁর নিজের এবং ২০ ভরি বন্ধকি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। এ ছাড়া ৬০০ ভরি রূপা, স্বর্ণ কেনার রসিদ ও নগদ চার লাখ টাকা চুরি হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রোববার রাত ৩টা ২১ মিনিটের দিকে নিউ রানা জুয়েলার্সের সাটার খুলে ফেলে কয়েকজন। পরে সাটারের ভেতরের দিকে থাকা থাই গ্লাস খুলে একে একে দোকানে ঢোকে হুডি ও জ্যাকেট পরা সাত-আটজন। তাদের কেউ মাঙ্কি টুপি, আবার কেউ হুডি ও মাস্ক পরে ছিলেন। দোকানে ঢুকে তারা স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারগুলো বের করে নেন। একজনকে দোকানের ক্যাশবাক্সের কাছে টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজতে দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিপুল স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় চোররা।
পুলিশ সূত্র বলছে, জুয়েলার্সে বিভিন্নজনের ৫০ ভরির মতো স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রাখা ছিল। তাদের কেউ কেউ স্বর্ণ ফেরত নিতে চাইলেও মালিক দিতে পারছিলেন না বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে ঘটনাটি সাধারণ চুরির মতো নাও হয়ে থাকতে পারে। আর ছোট্ট একটি দোকানে সাত-আটজন চুরি করতে ঢোকার বিষয়টিও সন্দেহজনক।




Comments