Image description

কনকনে শীতের তীব্রতায় চুয়াডাঙ্গায় সাধারণ মানুষের জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জেঁকে বসেছে শীত, তাপমাত্রার পারদ নামল ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশের শীতলতম জনপদে পরিণত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা। ভোরের আকাশে আলো ছড়ানোর আগেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে মাঠ–ঘাট, সড়ক–জনপদ। রাত যত গভীর হয়, কুয়াশা ততই যেন তার রাজত্ব বিস্তার করে। হিমেল বাতাসের ঠান্ডা আর কুয়াশার দমবন্ধ করা ঘনত্ব মিলে সৃষ্টি করেছে শীতের এক কাঁপন ধরানো পরিবেশ।

বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯৫ শতাংশ। এমন বৈরী আবহাওয়া এবং হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু এ অঞ্চলের জনজীবন। শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছে বেকায়দায়। সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। আর যারা জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তারা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। মাঠে কৃষিকাজ প্রায় হচ্ছেই না। শীতবস্ত্রের অভাবে শীতার্ত গরিব ও ছিন্নমূল মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। শীতের প্রকোপে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। শীতের কারণে বেড়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো ঠান্ডাজনিত রোগ।

কনকনে শীতে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। দোকানপাট খুলছে দেরিতে, রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোতেও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় লোকসমাগম অনেক কম। তবে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, ও ভ্যানচালকে।

অটোরিকশা চালক মশিউর রহমান বলেন, যে পরিমাণ ঠান্ডা বাতাস বইছে, তাতে মানুষ বাড়ি থেকে কম বের হয়। এজন্য ভাড়া কমে গেছে।

দিনমজুর রবিউল ইসলাম বলেন, ভোরে কাজের জন্য বের হলেই হাত-পা যেন বরফ হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় একটা ফ্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরও পেটের দায়ে কাজ খুঁজতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৫ শতাংশ। এর আগে সকাল ৬ টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ। জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।