Image description

মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের মধ্যে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন এক ‘ফেসবুক যুদ্ধ’। সালিশ বৈঠকে এক বিএনপি কর্মীকে এমপির ধমক দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এই বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। রাশেদ খাঁন এমপিকে ‘চিড়িয়াখানায় রাখার উপযুক্ত প্রাণী’ বললে, পাল্টা জবাবে এমপি তাকে মহিষের পাশে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এমপি হানজালা লেখেন, ‘রাশেদ খাঁন আমাকে চিড়িয়াখানায় দেখতে নিতে চায়। আমি তো যাবই, তবে থাকবো বাঘের সাথে— বাঘ অন্তত নিজের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত করে না!’ পোস্টে তিনি রাশেদ খাঁনকে উদ্দেশ্য করে আরও লেখেন, ‘আর রাশেদ খাঁনকে রেখে আসবো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এক গরুর (মহিষ) পাশে। দেখি দুজন মিলে কতক্ষণ গল্প করতে পারে! চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষকে শুধু একটা অনুরোধ— গরুটার (মহিষ) যেন পরে নাম পরিবর্তনের আবেদন না করে।’

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন মাদারীপুরের শিবচরের দত্তপাড়ায় একটি সালিশ বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, সংসদ সদস্য হানজালা উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে উচ্চৈঃস্বরে বলছেন, ‘চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

এই ভিডিওর প্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে রাশেদ খাঁন ফেসবুকে এমপি হানজালার তীব্র সমালোচনা করে একটি পোস্ট দেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এমপি হানজালারে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কীভাবে এমপি হলো?’

রাশেদ খাঁনের এই পোস্টের পর আজ রোববার পাল্টা জবাব দিলেন সংসদ সদস্য হানজালা। এ নিয়ে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর