পরশুরামে ময়লার স্তূপে চলছে স্বাস্থ্যসেবা, রোগীদের দুর্ভোগ
ফেনীর পরশুরাম উপজেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা যেন ময়লা-আবর্জনা আর অব্যবস্থাপনার কবলে। জেনারেটর অকেজো, বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার নষ্ট, হাসপাতালের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা এবং আগাছায় ভরা পরিবেশ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগের শেষ নেই, আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রোগীদের হাসফাস
হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রোগীদের একমাত্র ভরসা মোবাইল ফোনের টর্চলাইট বা মোমবাতি। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন পলাশ বলেন, “ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। তীব্র গরমে রোগীর কষ্ট বাড়ছে। জেনারেটর চালু না হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়ছি।”
বিশুদ্ধ পানির অভাব
হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের পানি সংগ্রহ করতে হাসপাতালের নিচে টিউবওয়েলে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
ময়লা-আবর্জনায় ডুবে আছে হাসপাতাল
হাসপাতালে ডাস্টবিন থাকলেও যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। নারিকেলের খোসা, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন আবর্জনা হাসপাতালের গেটের ভেতরে এবং চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ড্রেনে জমে থাকা কালো পানির দুর্গন্ধে দাঁড়ানো দায়। কার্নিশে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা পরিবেশকে আরও নোংরা করছে। বিকেল হলেই মশার উপদ্রব বেড়ে যায়, যা রোগীদের জন্য অসহনীয়। এক রোগী বলেন, “সন্ধ্যা হলেই মশার কারণে বসে থাকা অসম্ভব। একাধিক মশার কয়েল জ্বালিয়েও মশা তাড়ানো যায় না।”
আগাছায় ভরা হাসপাতাল
হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ আগাছায় ঢেকে গেছে। দেখে মনে হয়, পরিচ্ছন্নতার জন্য কোনো তদারকি নেই। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল যেন মশা-মাছির প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে এই হাসপাতালে কত দুর্নীতি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এসব কে দেখবে? দেখার কেউ নেই।” হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইফতেখার হাসান ভূঁইয়া জানান, সরকারিভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ না হওয়ায় তারা নিজ উদ্যোগে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রেখেছেন, যিনি সীমিত পরিসরে কাজ করছেন। জেনারেটর মেরামতের জন্য উচ্চপর্যায়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো সাড়া মেলেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ এমদাদুল হক বলেন, “রোগী ও তাদের স্বজনদের অসাবধানতার কারণেও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তবে আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।”
রোগীদের আক্ষেপ
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মতে, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে হাসপাতালের এই দুরবস্থা। স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে এমন অব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরশুরাম উপজেলা হাসপাতালের এই অবস্থা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।




Comments