নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী দুই তরুণী ও তাদের পরিবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এজাহার দাখিল করেন।
প্রথম মামলার বাদী সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার এক তরুণীর মা। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী কামাল আহমেদ ফেসবুকের মাধ্যমে তার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের দশপাইপ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন কামাল। এরপর বারবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও কালক্ষেপণ করায় অবশেষে মামলা করতে বাধ্য হন পরিবার।
দ্বিতীয় মামলার বাদী বরিশালের বাসিন্দা লামিয়া আক্তার (২৩)। তার অভিযোগে বলা হয়, একই এলাকার কাজল ভূঁইয়া (২৭) ফেসবুকের মাধ্যমে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিয়ের প্রলোভন দেখান। এই প্রলোভনে গত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন কাজল। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ কাজল সরাসরি বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে লামিয়া থানায় গিয়ে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতেই জালকুড়ি মাঝপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে কাজল ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনূর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলার আসামি কাজল ভূঁইয়াকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথম মামলার আসামি কামাল আহমেদকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ওসি আরও বলেন, “এ ধরনের অপরাধের প্রতি আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, দুটি ঘটনাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণামূলক সম্পর্ক থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিশ ও সচেতন মহল।




Comments