রাজশাহীর তানোরে গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে ৩০ ঘণ্টা পার হলেও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরামহীন চেষ্টা চালিয়েও শিশুটির কোনো সন্ধান বা অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরা। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে খেলার সময় অরক্ষিত একটি গর্তে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। এরপর থেকে ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৮টি ইউনিট, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, মূল গর্তের সমান্তরালে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি খুঁড়ে শিশুটির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। প্রথমে সার্চ ভিশন ক্যামেরা নামিয়ে ৪৫ ফুট গভীর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়, তবে ক্যামেরায় শিশুটির কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। এরপর বড় এক্সকেভেটর দিয়ে গর্ত আরও প্রশস্ত ও গভীর করার কাজ শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৬০ ফুট খনন করা হলেও সাজিদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘শিশুটিকে না পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কাজ করে যাবে। প্রয়োজনে ১০০ ফুট পর্যন্ত গভীরে যেতে হলেও আমরা যাব। তাকে উদ্ধার করা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।’’
স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপরও জমির মালিক ওছির উদ্দিন পানির স্তর যাচাইয়ের জন্য গর্তটি খুঁড়েছিলেন। পরে মাটি দিয়ে গর্তটি ভরাট করা হলেও বর্ষায় মাটি দেবে গিয়ে সেখানে পুনরায় গর্তের সৃষ্টি হয়। সেই অরক্ষিত গর্তেই বুধবার দুপুরে পড়ে যায় শিশু সাজিদ।
উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।




Comments