গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হয়েছেন ৪ পুলিশ সদস্য। হামলাকারীরা পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান ও একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ২ নারীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা পিয়ার আলী কলেজের উত্তর পাশে কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অরূপ কুমার বিশ্বাস, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ, কনস্টেবল আজিজুল ও মোশারফ। তাদের মধ্যে কনস্টেবল মোশারফকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদে এসআই অরূপ কুমারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবাসহ লাকী আক্তার, জাহাঙ্গীর ও রাজীব নামে তিনজনকে আটক করা হয়। আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা রামদা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অভিযানে ব্যবহৃত দুটি পিকআপ ভ্যান ও একটি সিএনজি ভাঙচুর করে। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে হামলাকারীরা জাহাঙ্গীর ও রাজীবকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- লাকী আক্তার (২৮), জামাল (৩৪), কামাল (৪৩), আসিফ (২০), আশিক (২৪), মুন্না (২০), ফয়জুল্লাহ (২৬), শিল্পী আক্তার (৩০), লিমন (১৮) এবং আক্কাস (২৯)। ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া তিনটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে পুলিশ।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ বলেন, “মাদক উদ্ধারের সময় সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে আসামী ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় এসআই অরূপ কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮০-৯০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মাদক ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ১০ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তবে হাতকড়াসহ দুই আসামী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments