Image description

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে চরম প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দীর্ঘদিনের ছুটিতে ভারতে অবস্থান করছেন এবং অধিকাংশ চিকিৎসক প্রেষণে (সংযুক্তি) রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন নামি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং হাজার হাজার গ্রামবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে গত মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ পদের কর্মকর্তারা কর্মস্থলে নেই। 

প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গায়ত্রী বিশ্বাস গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে ছুটিতে ভারতে রয়েছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি তার ফেরার কথা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়ই ছুটিতে থাকেন।

প্রধান কর্মকর্তার পাশাপাশি অনুপস্থিত ছিলেন অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর সাইফুল ইসলাম এবং ক্যাশিয়ার রেহানা পারভীন। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তারা শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এই বেহাল দশা ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও ভয়াবহ। সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডা. নাদিরা খানম, দুর্গাপুর ইউনিয়নে ডা. রিম্পা বিশ্বাস এবং লতিফপুর ইউনিয়নে ডা. কাজী সাবিকাতুন নজুমের দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও তাদের কাউকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।

ডা. রিম্পা বিশ্বাস জানান, তিনি ও ডা. নাদিরা বর্তমানে গোপালগঞ্জ বক্ষব্যাধি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ডা. সাবিকাতুন ছুটিতে রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার অন্তত ১৩টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসাররা দীর্ঘদিন ধরে নিজ কর্মস্থলে না থেকে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও কুর্মিটোলা ৫০০ বেড হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে (অ্যাটাচমেন্ট) কাজ করছেন। গ্রাম পর্যায়ে চিকিৎসকদের এই অনুপস্থিতি এবং এসএসিএমও (SACMO) সংকট থাকায় গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা এখন ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. দিবাকর বিশ্বাস ক্ষোভের সাথে বলেন, "আসলে আমাদের কিছু করার নেই, ওপর মহলের নির্দেশে সবকিছু চলে। আপনি আপনার মতো করে লেখেন।"

চিকিৎসকদের এই ‘ঢাকা প্রীতি’ এবং দায়িত্বহীনতার কারণে জেলা সদরের প্রান্তিক মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অবিলম্বে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা সচল করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর