Image description

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর থেকে করুলিয়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রামীণ সড়কটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন জনসাধারণের জন্য ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ভাঙা ইট আর কাদায় ভরা এই জরাজীর্ণ রাস্তাটি প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতকে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতায় পরিণত করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লস্কর গ্রামের ঈদগাহ মাঠ থেকে নিজাম সরদারের বাড়ি হয়ে করুলিয়া অভিমুখী এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদা-মাটির সমুদ্রে পরিণত হয়, যেখানে পা ফেললে আটকা পড়তে হয় বিশাল বিশাল গর্তে। জরুরি রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স বা ভ্যান চালানো এখন প্রায় অসম্ভব ও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা কাদা মাড়িয়ে স্কুলে গেলেও পোশাক নষ্ট হওয়ার কারণে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

আবার শুকনো মৌসুমে অতিরিক্ত ধূলিকণার কারণে এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম সরদার আক্ষেপ করে বলেন, “ভোটের সময় প্রার্থীরা অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু নির্বাচনের পর আমাদের দুঃখের কথা সবাই ভুলে যায়। আমরা বহুবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি।”

রাফেজ মাহমুদ ও হযরত আলী নামে আরও দুই ভুক্তভোগী জানান, ভ্যান, সাইকেল বা মোটরসাইকেল কোনো কিছুই এই পথ দিয়ে নিরাপদে চালানো যায় না। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন না, ফলে অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জরাজীর্ণ এই গ্রামীণ সড়কটি কেবল মানুষের জীবনমানকে বিপন্ন করছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদনকেও স্থবির করে দিচ্ছে। নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থে সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ ও সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর