সৈয়দপুরে বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগের ইউনিয়ন সভাপতিসহ ৭০ নেতাকর্মী
নীলফামারীর সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় ৭০ জন নেতাকর্মী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন।
রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কামারপুকুর বাজার এলাকার একটি চালকল চত্বরে আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুল গফুর সরকারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেন।
আনোয়ার হোসেন বর্তমানে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতারা একযোগে বিএনপিতে যোগ দেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন; কামারপুকুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাবু সরকার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আবুল হাসেম সরকারসহ ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের সক্রিয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামারপুকুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীই ইতোমধ্যে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এতে ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যোগদান অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী একরামুল হক, সৈয়দপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলে নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
নব যোগদানকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, তৃণমূল পর্যায়ে অবমূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক নিষক্রিয়তায় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব এবং কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় তাঁরা দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
বিএনপিতে যোগদানকারী ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, “২০১৭ সাল থেকে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তুষ্ট ছিলাম। আমার মতো আরও অনেকেই একই কারণে হতাশ ছিলেন। আমরা স্বেচ্ছায় এবং নিজ নিজ বিবেচনায় বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। এখানে কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতি ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে আমরা আগ্রহী।”
এ বিষয়ে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. আব্দুল গফুর সরকার বলেন, “ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রায় ৭০ জন নেতাকর্মী বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে।”
তিনি আরও বলেন, “সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ এলাকায় বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। এই যোগদান সেই আস্থারই প্রতিফলন।




Comments