Image description

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলে ঘন কুয়াশার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় উপকূলীয় এই জনপদে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) কলাপাড়ায় গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৯টায় কলাপাড়ায় সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এসময় কুয়াশার দাপট এতটাই বেশি ছিল যে, অনেক স্থানে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নিচে নেমে আসে। বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা মেলেনি।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তাপমাত্রার সামান্য উন্নতি হয়ে ১০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও ঘন কুয়াশার কারণে প্রকৃতি ঢাকা পড়ে আছে।

তীব্র কুয়াশার ফলে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলাতেও মহাসড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। হাড়কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। চরাঞ্চলের বাসিন্দা ও গভীর সমুদ্রের মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। শীত নিবারণে অনেক স্থানে দরিদ্র মানুষদের খড়কুটা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

সমুদ্র তীরবর্তী গঙ্গামতি এলাকার জেলে আলী মাঝি তাঁর দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, “এমনিতেই সাগরে এখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, বর্ষাকালে থাকে সিগন্যালের ভয়। এখন আবার যে শীত আর কুয়াশা শুরু হয়েছে, সাগরের মধ্যে কিছুই দেখা যায় না। আমাদের মতো দিনমজুরদের আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”

এদিকে, তীব্র শীতের প্রভাবে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর