Image description

কুষ্টিয়ার মাঠজুড়ে এখন শুধু পেঁয়াজ আবাদের কর্মযজ্ঞ। গত বছরের ভালো বাজার দর ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে জেলায় এবার পেঁয়াজ চাষের হিড়িক পড়েছে। তবে আবাদের এই ধুমের মাঝে সারের কৃত্রিম সংকট ও অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় ১৪ হাজার ২৭৯ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ইতিমধ্যে ১৫ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এবার ১ হাজার ৩৭ হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে কুমারখালী (৪৮১৫ হেক্টর) ও খোকসা (৩৬৪৫ হেক্টর) উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। এছাড়া দৌলতপুরে ৩৬৩৭ হেক্টর এবং সদর উপজেলায় ৩০৮ হেক্টর জমিতে তাহেরপুরি, কিং সুপার ও বারি-১ জাতের পেঁয়াজ লাগানো হয়েছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়ছে ২২ থেকে ২৫ টাকা। গত বছর মৌসুমে পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বছরের ব্যবধানে তা ১৩৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজ ৮৫-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো লাভের আশায় কৃষকরা অন্য ফসলের বদলে পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। তবে সারের বাজার নিয়ে তাদের অভিযোগের শেষ নেই।

কুমারখালীর যদুবয়রা ও পান্টি ইউনিয়নের কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা সিন্ডিকেট করে নন-ইউরিয়া সারের (টিএসপি, এমওপি, ডিএপি) কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন সাব-ডিলাররা। কৃষক তৌহিদুল ইসলাম ও আবু বাদশা জানান, ডিলাররা লাইনে দাঁড়িয়ে ১০-২০ কেজির বেশি সার দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে। খোলাবাজারে ১৩৫০ টাকার টিএসপি ১৮৫০-২০০০ টাকা এবং ১০৫০ টাকার ডিএপি ১৪৫০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কুষ্টিয়া বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি খন্দকার আব্দুল গাফফার সারের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “সরকার চাহিদা অনুযায়ী সার দিচ্ছে না। তবে কোনো ডিলার অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে না। সাব-ডিলার ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে সার বিক্রি করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার।”

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে।”

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে এবং চাহিদা অনুযায়ী সার পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। কোনো ডিলার সিন্ডিকেট করলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে দলবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। কৃষকদের দাবি, সরকার যদি সারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে এবং বাজার দর স্থিতিশীল রাখে, তবে এবার পেঁয়াজ উৎপাদনে কুষ্টিয়া জেলা রেকর্ড গড়বে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর