Image description

বরগুনার তালতলী উপজেলার খোট্টাচর এলাকায় দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। গত সোমবার ওই এলাকার বাসিন্দারা ‘ত্রাণ নয়, টেকসই রাস্তা ও ব্রিজ চাই’ এই দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খোট্টাচর ব্রিজ ঘাট থেকে উত্তর খোট্টাচর হয়ে দক্ষিণ খোট্টাচর আবাসন পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কাঁচা এই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাদা ও পানিতে সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে স্কুল ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো কোনো মুমূর্ষু রোগী বা প্রসূতি নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য এই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের ন্যূনতম সুযোগ নেই। ফলে জরুরি চিকিৎসার অভাবে প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হতে হয় বাসিন্দাদের।

এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানের লক্ষে গত সোমবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বরগুনা জেলা সংগঠক এম. শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে এলাকাবাসী তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এসময় তারা সড়কটি পাকাকরণ এবং বাজার থেকে খোট্টাচর যাওয়ার প্রধান ব্রিজটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।

খোট্টাচর এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তাটি এতটাই খারাপ যে ছোট বাচ্চারা একা হাঁটতে পারে না। বারবার হোঁচট খেয়ে আহত হতে হয়। আমাদের জন্য একটি ভালো রাস্তা এখন সময়ের দাবি।” আয়েশা বেগম নামে এক নারী বলেন, “আমরা কোনো ত্রাণ চাই না, আমরা সরকার থেকে শুধু একটি পাকা রাস্তা আর একটি ব্রিজ চাই। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হলে আমাদের জীবন অন্ধকার।”

হাসিনা বেগম নামে আরেক নারী জানান, এলাকার ৫০ জন নারী-পুরুষের গণস্বাক্ষরসহ আমরা লিখিত আবেদন দিয়েছি। আমরা ইউএনও সাহেবের কাছে স্থায়ী সমাধান চেয়েছি।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংগঠক এম. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “উন্নয়নের দোহাই দিয়ে সাময়িক ত্রাণ বিতরণ নয়, সাধারণ মানুষ এখন টেকসই উন্নয়ন চায়। জনগণের এই মৌলিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।”

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম গ্রামবাসীর আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জনস্বার্থে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বিশেষ করে ভেঙে পড়া ব্রিজটি পুনর্নির্মাণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর