শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিট। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম দিয়ে অন্তত শতাধিক শক্তিশালী ককটেল তৈরি করা সম্ভব ছিল।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের একটি বিধ্বস্ত ঘর থেকে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাতে ওই বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় হঠাৎ এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো বসতঘরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই এক যুবকের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত দু্ইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে আরও একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশের ধারণা, ঘটনার সময় অন্তত শতাধিক হাতবোমার একসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘ দুই দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে এর আগেও এলাকায় বহুবার ককটেল বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বোম ডিসপোজাল ইউনিটের ইন্সপেক্টর শঙ্কর কুমার দাস জানান, "ঘটনাস্থল থেকে ককটেল তৈরির জর্দার কৌটা, তারকাটা ও বিভিন্ন রাসায়নিক বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এসব উপকরণ দিয়ে শতাধিক বোমা তৈরি করা সম্ভব ছিল। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি।"
জাজিরা থানা পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments