Image description

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষের বাস। তৃণমূল পর্যায়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৬টি ইউনিয়নে ৭টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৯টি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও তদারকির অভাবে এসব কেন্দ্রে কোনো মেডিকেল অফিসার বা ডাক্তার বসেন না। ফলে সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমবিবিএস ডাক্তার (মেডিকেল অফিসার) থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে কেবল উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট বা পিয়নদের পাওয়া যায়। অনেক জায়গায় শুধু অফিস সহায়ক ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না।

গত ২৮ ডিসেম্বর সূয়াপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেবা ও ওষুধ না পেয়ে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। সেখানে ভিজিটর ও অফিস সহায়ক ছাড়া কেউ ছিলেন না।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কোনো মেডিকেল অফিসার আসেন না। একমাত্র ফার্মাসিস্ট অবসরে গেছেন এবং উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার এক সপ্তাহ আগে বদলি হয়ে গেছেন।

কুটির চর গ্রাম থেকে আসা ৬০ বছর বয়সী আব্দুল আলী তার স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে ডাক্তার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে যান। একই চিত্র দেখা গেছে সূতিপাড়া ইউনিয়নের বেশীশ্বর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও, যেখানে একজন ফার্মাসিস্ট ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ধামরাইয়ের একদম পূর্ব প্রান্তে হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি ইউনিয়নের রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় এবং স্থানীয় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার না থাকায় দরিদ্র মানুষ বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে বেসরকারি ক্লিনিক নির্ভর হয়ে পড়ছেন।

গত ২০ ডিসেম্বর ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বেলা ১টার দিকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার দিন বেশিরভাগ সময়ই কেন্দ্রটি বন্ধ থাকে। সানোড়া ইউনিয়নের মহিষাশী এবং গাংগুটিয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও মেডিকেল অফিসারের দেখা মেলেনি। আমতা ও বালিয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই কোনো অফিস সহায়কও। ৯টি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৮ জন সহকারী সার্জনের পোস্টিং থাকলেও তারা কোথায় বসেন, তা সাধারণ মানুষের অজানা।

এসব অনিয়ম ও মেডিকেল অফিসারদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মঞ্জুর আল মুর্শেদ চৌধুরী বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কে দায়িত্বে আছেন তার তালিকা দিতেও অস্বীকৃতি জানান।

অন্যদিকে, ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. মো. হারুন রশিদ বিষয়টি পরিচালককে জানাতে বলেন। পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিভিল সার্জনের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার কথা বলে দায় এড়িয়ে যান। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এমন অনীহায় ধামরাইয়ের তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত তদারকি বাড়িয়ে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক, যাতে দরিদ্র মানুষ তাদের ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা ফিরে পায়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর