কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এক গৃহবধূকে নিজ ঘরে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মহিমা খাতুন তিন সন্তানের জননী। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী শহিদুল ইসলাম বাবলু নিখোঁজ থাকায় জনমনে ব্যাপক রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের বানিয়ার ভিটা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জানাজানি হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দিগদাড়ীর পাড় বানিয়ার ভিটা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বাবলু ও তার স্ত্রী মহিমা খাতুন প্রতিদিনের মতো গত রোববার রাতে ঘুমান। সোমবার সকালে স্থানীয়রা ঘরের ভেতর মহিমা খাতুনের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। মরদেহের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।
প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দম্পতির মধ্যে কোনো প্রকাশ্য বিরোধ ছিল না। তারা দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি রিকশা গ্যারেজের মেসে রান্নার কাজ করতেন। মাত্র এক মাস আগে তারা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। পারিবারিকভাবে তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল বলেই দাবি করছেন স্বজনরা।
তবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে স্বামী বাবলু নিখোঁজ থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ঘটনার সময় স্বামীকেও হয়তো তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিংবা তাকেও হত্যা করা হতে পারে। তবে অন্য একটি পক্ষ স্বামীর অন্তর্ধানকে সন্দেহের চোখে দেখছে। এই নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, "হত্যাকাণ্ডের শিকার মহিমা খাতুনের স্বামী বাবলুকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments