আগৈলঝাড়ায় ভর্তির অতিরিক্ত টাকা জোগাতে গরু-গাছ বিক্রি করছেন অভিভাবকরা
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক মিঞার বিরুদ্ধে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এই অর্থ আদায়ের মূল কারিগর হিসেবে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। অতিরিক্ত টাকার চাপ সইতে না পেরে প্রত্যন্ত কৃষিপ্রধান এলাকার দরিদ্র অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে গোয়ালের গরু, বাগান ও বসতবাড়ির গাছ বিক্রি এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সন্তানের ভর্তির টাকা জোগাড় করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা সদরের স্বনামধন্য ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমী ও শ্রীমতি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ফি অনেক বেশি ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উত্তোলিত এই বিপুল অর্থের সামান্য অংশ অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হলেও সিংহভাগ টাকা প্রধান শিক্ষকের পকেটে যাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে ১ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে, যেখানে পাশের রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫৫০ টাকা। একইভাবে ৭ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় অন্যান্য বিদ্যালয়ের তুলনায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করছে।
উপজেলা সদরের ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীতে ৭ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি ও অন্যান্য ফি বাবদ ১ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণিতে ১ হাজার ২০০ টাকা, ৮ম শ্রেণিতে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৯ম ও ১০ম শ্রেণিতে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া এসএসসি ফরম পূরণের ক্ষেত্রেও স্কুলটির বিরুদ্ধে অন্য স্কুলের তুলনায় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে স্কুলে কোনো ম্যানেজিং কমিটি না থাকার সুযোগে প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছামতো ফি নির্ধারণ করছেন।
ভর্তির টাকার বিষয়ে ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর প্রধান শিক্ষক যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রি জানান, তারা বিদ্যুৎ বিল ও খেলাধুলাসহ সব মিলিয়ে ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক মিঞা বলেন, "এটি শুধুমাত্র ভর্তি ফি নয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের বকেয়া পাওনা, বিদ্যুৎ বিল ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতের টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।"
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান মানবকণ্ঠকে জানান, বকেয়া পাওনার কারণে হয়তো টাকার পরিমাণ কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলছেন বলে জানান।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা এই অতিরিক্ত ফি কমানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments