Image description

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এয়ারগান দিয়ে অবাধে পাখি শিকার করা হচ্ছে। উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে তিন যুবক প্রতিদিন নির্বিচারে দেশি ও অতিথি পাখি শিকার করলেও প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে বিল ও ফসলের মাঠে পাখির আগমন বেড়েছে। এই সুযোগে ফতেপুর গ্রামের তিন যুবক এয়ারগান নিয়ে নেমে পড়েছেন পাখি নিধনে। তারা বক, ঘুঘুসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে শিকার করছেন। দিনের পর দিন এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো হুমকির শিকার হচ্ছেন।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম (৫৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এয়ারগান দিয়ে পাখি মারা সম্পূর্ণ অবৈধ। খাওয়ার নাম করে তারা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। প্রতিবাদ করলে তারা ভয়ভীতি দেখায়। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।’

গৃহবধূ রহিমা বেগম (৪৮) বলেন, ‘সকাল-সন্ধ্যায় গুলির শব্দে আমরা আতঙ্কিত থাকি। পাখিরা ফসলের পোকা খেয়ে আমাদের উপকার করে। এভাবে নির্বিচারে শিকার চললে একসময় এলাকা পাখিশূন্য হয়ে পড়বে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসাদুল ইসলাম (৬২) বলেন, ‘শিকারিরা অত্যন্ত বেপরোয়া। তাদের এয়ারগান জব্দ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

পরিবেশবিদদের মতে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী যেকোনো ধরনের বন্যপ্রাণী বা পাখি শিকার, হত্যা বা দখলে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে এয়ারগান ব্যবহার করে পাখি শিকার আইনত নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ শিকারিদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং এলাকাকে পাখিমুক্ত ঘোষণা করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা হোক।

মানবকণ্ঠ/ডিআর