রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাতী হাট এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘ সাত মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে রাকিব মিয়া (২৫) নামে এক প্রাইভেট শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত রাকিব উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের বানিয়ারজান গ্রামের রুশু মিয়ার ছেলে।
অভিযুক্ত রাকিব মিয়া ‘চ্যালেঞ্জ কোচিং সেন্টার’ নামে একটি কোচিং পরিচালনা করতেন, যেখানে প্রায় ৩৫ জন শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ত। ভুক্তভোগী দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর অভিযোগ, গত সাত মাস ধরে শিক্ষক রাকিব অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়ার পর তাকে বিশেষ ক্লাসের অজুহাতে আটকে রাখতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, “স্যার আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছিলেন। গত সাত মাস ধরে তিনি আমাকে লালসার পণ্য বানিয়ে রেখেছেন।”
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিষয়টি জানাজানি হলে ছাত্রীর পরিবার কোচিং সেন্টারে গিয়ে সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করে। অবস্থা বেগতিক দেখে রাকিব প্রথমে পালিয়ে গেলেও বুধবার রাতে স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক বসে। সেখানে উপস্থিত সবার সামনে রাকিব ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি ঔদ্ধত্যের সাথে দাবি করেন, এই সম্পর্কটি তার কাছে কেবলই ‘টাইম পাস’ ছিল। তার এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যে উপস্থিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষক পরিচয়ের আড়ালে রাকিব একজন অভ্যাসগত অপরাধী। এর আগেও তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে থানা হেফাজতে আছেন। ভুক্তভোগী কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments