Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে আলোচিত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার নির্বাচনি লড়াইয়ে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। স্বামী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর আপিলের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তার সহধর্মিণী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী মোছা. শেফালী বেগমের মনোনয়ন বাতিল করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এই সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসন থেকে জাতীয় পার্টির কে এম ফজলুল মন্ডল (লাঙ্গল) এবং তার স্ত্রী শেফালী বেগমের (একতারা) মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ফজলুল মন্ডল নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেন যে, শেফালী বেগম সরকারি শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেওয়ার পর নির্ধারিত তিন বছরের ‘কুলিং পিরিয়ড’ বা সময়সীমা পূর্ণ করেননি। আপিল শুনানিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেয়।

প্রার্থিতা বাতিলের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে শেফালী বেগম দাবি করেন, তিনি ৪-৫ বছর আগেই স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এখনো বহাল রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, কে এম ফজলুল মন্ডল দাবি করেছেন তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। সাবেক স্ত্রীর প্রার্থিতা আইনসম্মত নয় বলেই তিনি আইনি লড়াইয়ে গেছেন।

এই ঘটনার পর কুড়িগ্রাম-৪ আসনে এখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭ জনে। তারা হলেন- কে এম ফজলুল মন্ডল (জাতীয় পার্টি), মো. আজিজুর রহমান (বিএনপি), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী), মাওলানা হাফিজুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. রুকুনুজ্জামান (স্বতন্ত্র), আব্দুল খালেক (বাসদ-মই) এবং রাজু আহম্মেদ (বাসদ-কেঁচি)।

চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। এর মধ্যে চিলমারীতে ১ লাখ ১২ হাজার ৬০০, রৌমারীতে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৭ এবং রাজিবপুরে ৬৮ হাজার ৬৭৬ জন ভোটার রয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বামী-স্ত্রীর এই আইনি লড়াই ও মনোনয়ন বাতিলের ঘটনাটি কুড়িগ্রামের নির্বাচনি আমেজে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর