Image description

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় লিগুমিনাস জাতীয় ঘাস চাষে সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা বিতরণে বিদায়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু হায়দার আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বদলি হওয়ার পরও তিনি প্রকৃত খামারিদের বাদ দিয়ে অফিস স্টাফ ও নিজের পছন্দের লোকদের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ জন খামারির জন্য জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ডা. আবু হায়দার আলী প্রকৃত উপকারভোগীদের বঞ্চিত করে নিজ অফিসের কর্মচারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকার কাগজে স্বাক্ষর নিলেও হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার টাকা। বাকি ১ হাজার টাকা নানা কৌশলে কেটে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় খামারি আল আমিন অভিযোগ করেন, প্রকৃত খামারিদের নাম বাদ দিয়ে সেখানে অফিস স্টাফদের নাম ঢোকানো হয়েছে।

নারী খামারি আরিফা জেসমিন জানান, প্রণোদনা দেওয়ার সময় এক হাজার টাকা করে কেটে রাখা হয়েছে। এমনকি ওই অফিসের এ.আই. টেকনিশিয়ান রয়েল ইসলাম, যিনি নিজেও একজন গ্রহীতা ছিলেন, তিনি স্বীকার করেছেন যে তাকেও ৫ হাজার টাকার বদলে ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ডা. আবু হায়দার আলীকে সম্প্রতি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে তিনি বাগাতিপাড়া থেকে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই প্রণোদনার অর্থ বিতরণ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. আবু হায়দার আলী অস্বীকার করে জানান, সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।

তবে নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মো. আখতার হোসেন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। তিনি জানান, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মকর্তার ‘শেষ বেতন সনদ’ (এলপিসি) প্রদান করা হবে না। অনিয়ম প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরকারি অর্থ বিতরণে এমন স্বচ্ছতাহীন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাগাতিপাড়ার সাধারণ খামারিরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর