Image description

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদী, আড়িয়াল খাঁ নদ ও বিল পদ্মা এলাকায় নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে অবাধে চলছে মাছ শিকার। ইনভার্টার ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ব্যবহার করে চালানো এই অমানবিক শিকারে ধ্বংস হচ্ছে রেণু পোনা ও ডিমসহ সব ধরনের জলজ প্রাণী। এতে এ অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাদবরের চর, কাঁঠালবাড়ি ও চর জানাজাত ইউনিয়নের নদ-নদীগুলোতে ১০ থেকে ১৫টি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা নৌকায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করে পানিতে শক প্রয়োগ করে। এতে নির্দিষ্ট এলাকার ছোট-বড় সব মাছ ও জলজ প্রাণী মুহূর্তেই নিস্তেজ হয়ে ভেসে ওঠে। চক্রগুলো সারারাত এই তাণ্ডব চালিয়ে ভোরে মাদবরের চর ও পাঁচ্চর এলাকার বিভিন্ন আড়তে এসব মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি করছে।

স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ইলেকট্রিক শকে মাছ শিকারের ফলে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে মাছ ধরা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বেড জালে এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই দেশি প্রজাতির মাছ এ অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বর্তমানে প্রতিটি নৌকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত ছোট-বড় মাছ ধরা হচ্ছে, যার বেশিরভাগই রেণু পোনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নৌকার মাঝিরা সারারাত এই নিষিদ্ধ কাজ চালিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই নদীর পাড়ে বা স্থানীয় ভেলি বাজারে মাছ বিক্রি করে সটকে পড়ে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক স্থানীয় বাসিন্দা।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার মানবকণ্ঠকে বলেন, "আমরা এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের খবর পেয়েছি। বেশ কয়েকবার অভিযান চালালেও জড়িতদের ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে আমাদের তদারকি অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

নদী ও বিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অতিসত্বর এই ঘাতক পদ্ধতি বন্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন মহল।

মানবকণ্ঠ/ডিআর